প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত ৫০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসি চালু করছে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের একটি অ্যাপ, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।
ইসি সূত্র জানায়,
অনলাইন অ্যাপ তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে: ৪৯ কোটি টাকা,
৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে খরচ হবে: প্রতি ভোটার ৭০০ টাকা হিসাবে ৩৫০ কোটি টাকা,মোট প্রস্তাবিত ব্যয়: প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।পোস্টাল ব্যালট পাঠানো, প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ পরিবহন এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার কাজ করবে সরকারি ডাক বিভাগ।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান,
“প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশেরই এনআইডি রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে অন্তত ৫০ লাখকে এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে চাই।”
ইসির তথ্য মতে, যেসব দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, তুরস্ক ও আরও অনেক দেশ।
ভোটের প্রক্রিয়া কেমন হবে?
-
অ্যাপে নিবন্ধন: প্রবাসী ভোটাররা ‘Postal Vote BD’ অ্যাপে নিজের এনআইডি, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করবেন।
-
প্রার্থী তালিকা মেসেজে: মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে প্রার্থীদের তালিকা প্রবাসীদের ফোনে পাঠানো হবে।
-
ব্যালট পেপার প্রেরণ: শুধুমাত্র প্রতীকযুক্ত ব্যালট (সিম্বল ব্যালট) ডাকযোগে পাঠানো হবে।
-
ভোট প্রদান: ভোটার ব্যালট পূরণ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানায় ফেরত পাঠাবেন।
-
গণনা: দেশে ভোটগ্রহণ শেষে প্রবাসী ব্যালট একই সঙ্গে গণনায় যুক্ত হবে।
পোস্টাল ব্যালট পাঠানো ও ফেরত আনতে ডাক বিভাগকে ২০-২৮ দিন সময় লাগবে, তাই প্রবাসীরা আগেভাগেই ভোট দিতে পারবেন।
এই নির্বাচনে শুধু প্রবাসীরা নয়, দেশের ৭১টি কারাগারের বন্দিরাও প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনিভাবে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন,
“এই উদ্যোগ পরীক্ষামূলক হলেও বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। প্রবাসীরা যেন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।”
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী ভোট অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তবে সময়মতো ব্যালট পৌঁছানো, নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং ব্যয় নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে যুক্ত করতে যে ৪০০ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে—তা নির্ভর করছে সময় ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক ডাকবাহিনীর দক্ষতার ওপর।

