পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ধর্ষণচেষ্টার শিকার পাঁচ বছরের এক শিশুকে ভর্তি করার পর, ওই শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. আবুল কাশেম শিশুটির পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলছেন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, ধর্ষণচেষ্টার মামলার কপি হাতে না থাকায় চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শিশুটির বাবা জানান, “রাতে মামলা করার পর থানার পক্ষ থেকে বলা হয়, পরদিন বিকেলে কপি দেওয়া হবে। সকালে আমি হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানালে, চিকিৎসক আমাদের গালিগালাজ করেন এবং ছাড়পত্র নিয়ে চলে যেতে বলেন।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ডা. আবুল কাশেমকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসক আবুল কাশেম ঘটনার বিষয়ে বলেন, “হাসপাতালে প্রচণ্ড চাপ ছিল। কথা বলার সময় অসতর্কতাবশত এমন ঘটনা ঘটে গেছে। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন চিকিৎসক মন্তব্য করেছেন, “রোগীর পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকে। চিকিৎসকের উচিত সহানুভূতির সঙ্গে তাদের পাশে থাকা। কাউন্সেলিং চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও নজর রাখছে বলে জানা গেছে।

