বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন আশ্রয়ণ প্রকল্প, ঘরহারা শতাধিক পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মেঘনার ভয়াল ভাঙনে ভোলার সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রাম এখন কার্যত বিলীন হওয়ার পথে। নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে শতাধিক বসতভিটা, সরকারি স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। মানবেতর জীবনযাপন করছেন শতাধিক বাস্তুচ্যুত পরিবার।

একসময়ের শস্যভাণ্ডারখ্যাত মাঝেরচর এখন নদী ভাঙনের synonym হয়ে উঠেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে শামসুন নাহার ও জাহানারা বেগমের মতো ষাটোর্ধ্ব প্রতিবেশীরা আশ্রয় নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে একটি ছোট টং ঘরে। জীবন থেকে এখন নিরাপত্তা, সম্মান ও স্থিতি—সবই হারিয়ে গেছে বলে জানালেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাচিয়া ইউনিয়নের রামদেবপুর, মধুপুর ও টবগী গ্রামে গড়ে ওঠা ৬টি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটিই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে আছে রামদেবপুর-৪ নামের অবশিষ্ট প্রকল্পটি।

নদী গর্ভে চলে গেছে: বারইপুরা-১, রামদেবপুর-২, রামদেবপুর-৩, রামদেবপুর-৫, নতুন রামদেবপুর-৩

এই প্রকল্পগুলোর প্রতিটিতে গড়ে ছিল ১১০-১৩০টি ঘর। ফলে ঘরহারা হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ।

ভাঙনে বিলীন হয়েছে: ১টি মাটির কিল্লা, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদরাসা, ৩টি মসজিদ, ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক

কয়েক কিলোমিটার রাস্তা ও ফসলি জমি

১৭৯ নং উত্তর-পশ্চিম কাচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস এখন চলছে একটি পরিত্যক্ত সাইক্লোন শেল্টারে। কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে স্থানীয় একটি মাটির কিল্লার ভেতরে।

বসতভিটা হারিয়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন নদীতীরে টং ঘরে, কেউবা গরুর ঘরের পাশে সামান্য চালা তুলে রয়েছেন।
মেহের নেগার নামে এক জেলে পরিবারের গৃহবধূ বলেন,

“এক রাইতের মইধ্যে নদী ঘরবাড়ি সব ভাইঙা লইয়া গেছে, কিছুই নিতে পারিনি।”

অন্যদিকে জেলে সেলিম জানান,

“ঘর ভেঙে নদীর আগেই সরায়ে আনছিলাম। এখন এই টং ঘরে থাকি, জায়গা জমি কিছুই নাই।”

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষ দ্রুত নদী ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ও সিসি ব্লক বসানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও খাদ্য সহায়তার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন,

“বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবাহ বেড়ে গেছে। আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। মাঝেরচরে পরিদর্শন করেছি। প্রকল্প গ্রহণের জন্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভাঙন রোধ সম্ভব হবে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন