রাজধানীর মেট্রোরেলে যাত্রীচাপ দিন দিন এতটাই বেড়েছে যে, প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ যাত্রী এই পরিবহনে যাতায়াত করছেন। বিশেষ দিনে যাত্রীসংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে সাড়ে চার লাখও। এমন বাস্তবতায় যাত্রীচাহিদা সামাল দিতে আরও ১০টি ট্রেন ট্রিপ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী সমাধান কোচ বাড়ানোতেই।
মেট্রোরেলের প্রতিটি ট্রেনে বর্তমানে রয়েছে ৬টি কোচ। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ২,৩০০ যাত্রী ধারণ করা গেলেও, যাত্রীচাহিদা সে তুলনায় অনেক বেশি। ভবিষ্যতে প্রতিটি ট্রেনে ৮টি কোচ সংযুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও, এখনই তা সম্ভব হচ্ছে না।
ডিএমটিসিএলের একাধিক সূত্র জানায়, তিনটি প্রধান কারণের জন্য এখনই কোচ বাড়ানো যাচ্ছে না:
-
স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত দুই কোচের জায়গা থাকলেও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (PSD) এখনও লাগানো হয়নি।
-
এই কাজ সম্পন্ন করতে বেশি অর্থের প্রয়োজন, যা এখনই বরাদ্দ করা সম্ভব নয়।
-
অতিরিক্ত কোচ চালাতে গেলে বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে যাবে, যা বিদ্যমান ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্রিপগুলো সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।
সকালে:
প্রথম ট্রিপ চালু হবে দ্বিতীয় ‘সুইপিং ট্রেন’ দিয়েই (সকাল সাড়ে ৬টায়)। এতে কেবল এমআরটি পাস ও র্যাপিড পাসধারীরা ভ্রমণ করতে পারবেন।
রাতে:
বর্তমানে যেখানে শেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ৯টায় (উত্তরা) এবং ৯টা ৪০ মিনিটে (মতিঝিল), সেখানে নতুন সূচিতে থাকবে রাত ৯টা ১০, ৯টা ২০, ৯টা ৩০ (উত্তরা) এবং ৯টা ৫০, ১০টা ও ১০টা ১০ মিনিট (মতিঝিল) থেকে ট্রেন ছাড়ার পরিকল্পনা।
ডিএমটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. ইফতিখার হোসেন বলেন, “এটি এখনো স্টাডির পর্যায়ে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলছেন, শুধু ট্রিপ বাড়িয়ে যাত্রীচাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তার মতে, মেট্রোর পেছনে যে বিপুল ব্যয় হয়েছে, তাতে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিষেবা নিশ্চিত করা দরকার।
তিনি বলেন,
“মেট্রো পরিকল্পনার সময় থেকেই ৮ কোচের ধারণা ছিল। প্ল্যাটফর্মগুলোও সে অনুযায়ী নির্মাণ হয়েছে। এখন কোচ না বাড়ানোর অজুহাত দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“মেট্রো হচ্ছে একটি অত্যন্ত বিদ্যুৎ-নির্ভর (energy-hungry) ব্যবস্থা। প্রতি অতিরিক্ত ট্রিপ মানেই বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ ও পরিচালনা ব্যয়। বরং কোচ বাড়ালে একই ট্রিপে আরও যাত্রী পরিবহন সম্ভব।”
সরকারের লক্ষ্য ছিল দিনে ৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করা। যদিও যাত্রীসংখ্যা সেই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তারপরও শুধু ভাড়ার মাধ্যমে পরিচালনা ব্যয় পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশনাল খরচ বাড়িয়ে ট্রিপ বাড়ানো স্থায়ী সমাধান নয়। যাত্রীসেবার মান বজায় রাখতে ও ভবিষ্যতের চাপ সামলাতে হলে এখনই কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ করতে হবে।

