বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি—ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আলোচিত একটি মামলার শুনানিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থানের’ মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি, বরং তিনি ভারত চলে যেতে বাধ্য হন।

এই দাবি করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মো. আমির হোসেন, যিনি শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

জবাবী যুক্তিতে আমির হোসেন দাবি করেন,

“৩ আগস্টের একদফা কর্মসূচি ছিল দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল। এই আন্দোলনের পেছনে দেশি-বিদেশি শক্তির সমন্বিত ভূমিকা ছিল। এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।”

স্টেট ডিফেন্সের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা। তাদের মতে,

“এই মামলায় ড. ইউনূস কিংবা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। বিষয়টি মামলা সম্পর্কিত অভিযোগেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।”

তবে শেখ হাসিনার পক্ষে থাকা আইনজীবী বলেন,

“সাক্ষীর বক্তব্যে ড. ইউনূসের প্রসঙ্গ থাকায় আমাদেরও বক্তব্য দিতে হচ্ছে, যদিও আমরা এমন আলোচনাকে সমীচীন মনে করি না।”

স্টেট ডিফেন্স আরও দাবি করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ ঘটেনি।

তাদের ভাষ্য,

“শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে কোনো হেলিকপ্টার বা মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি। বরং জনগণের জানমাল রক্ষা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।”

নাহিদ ইসলাম তার সাক্ষ্যে স্টেট ডিফেন্সের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেন,

“এসব বক্তব্য সত্য নয়। ৫ আগস্ট সারাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা পূর্ব পরিকল্পিত এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ছিল।”

তিনি আরও জানান,

“আমি নিজে প্রত্যক্ষ না করলেও, আমাদের আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত সারজিস থেকে এসব তথ্য জেনেছি।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন