বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তুতি জোরদার, বিএনপির ২০০+ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অন্তত ২০০টির বেশি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মৌখিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোর বিষয়ে সমমনা জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা বলছেন, নির্বাচনে ‘গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়’ প্রার্থী বাছাইয়ে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে একাধিক জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। সেইসঙ্গে চলছে ইশতেহার প্রণয়নের কাজ। খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বিশেষ করে যেসব আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন, সেখানে ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন তিনি। নির্দেশনা স্পষ্ট—দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরের অন্তত ৮টি আসনে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-৪ এ তানভীর আহমেদ রবীন, ঢাকা-৮ এ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১৩ এ এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৬ এ আমিনুল হক এবং ঢাকা-১৭ এ বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই প্রার্থীরা ইতোমধ্যে এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় ইউনিট সভাও করেছে।

উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, পাবনা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা, ভোলা, বরিশালসহ বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থীদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান দুদু (চুয়াডাঙ্গা-১), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩), আজিজুল বারী হেলাল (খুলনা-৪), হাফিজ ইব্রাহিম (ভোলা-২), রাজীব আহসান (বরিশাল-৪) প্রমুখ।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবার বিএনপি তরুণ ও ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতাদের অগ্রাধিকার দেবে। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ফজলুর রহমান খোকন, সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রার্থী তালিকায় তাদের একাধিকজনের জায়গা হতে পারে।

দলীয় শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা মনোনয়ন নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধিতা করলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল-৫ আসনে এ ধরনের একটি পরিস্থিতি তৈরি হলে তারেক রহমান সরাসরি সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন এবং ঐক্যের বার্তা দেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহার হবে সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক। সামাজিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তরুণদের কর্মসংস্থান—এই চারটি মূল খাতকে প্রাধান্য দিয়ে ইশতেহার চূড়ান্ত করা হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন