বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মওদুদীর বই নিষিদ্ধ করলো আফগানিস্তান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সম্প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছেন, যেখানে দেশের সকল শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে থাকা বইসমূহ পর্যালোচনা করে ‘বিকৃত বা সন্দেহজনক’ বিষয়বস্তু চিহ্নিত করে সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ধর্ম, শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির কাজ হবে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক ও প্রাইভেট লাইব্রেরি এবং বইয়ের দোকানে থাকা বইসমূহ পর্যালোচনা করা এবং ইসলামি শরিয়া ও ‘জাতীয় মূল্যবোধের’ আলোকে যেসব বইকে ‘অনুপযুক্ত’ মনে করা হবে, সেগুলো আলেমদের পর্যালোচনার জন্য হস্তান্তর করা।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ বা সরানো হতে যাওয়া বইয়ের তালিকায় রয়েছে— দান্তের ‘দ্য ডিভাইন কমেডি’, ইউভাল নোয়া হারারির ‘স্যাপিয়েন্স’, খলিল জিবরানের ‘দ্য প্রফেট’, যোসেফ স্মিথের ‘দ্য বুক অব মরমন’, এমনকি প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ সাইয়্যিদ আবুল আ’লা মওদুদীর কিছু রচনাও। এই তালিকায় আফগান লেখক, ইরানি বুদ্ধিজীবী এবং ধর্মনিরপেক্ষ বা মানবাধিকারের পক্ষে লেখা বইও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এক বিবৃতিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ সাকিব বলেন, “দেশে সামরিক আগ্রাসনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনও চালানো হয়েছে। কিছু বই জনগণকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করছে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের বই সরিয়ে ফেলাই ইসলামি আমিরাতের দায়িত্ব।

তালিকায় যেসব বই ‘বিকৃত’ বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর পাশে মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে— ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘নারী অধিকার’, ‘তালেবানবিরোধিতা’, ‘জাতিসংঘ আইন’, ‘গণতন্ত্র’, ‘সংগীতপ্রেম’, ‘ইরানপন্থা’ এবং ‘পাশ্চাত্য মূল্যবোধের প্রশংসা’।

হেরাত ও কাবুলের একাধিক প্রকাশক ও লাইব্রেরি কর্মী জানিয়েছেন, তারা কয়েক মাস ধরে একটি নির্দেশনামা পাচ্ছেন, যেখানে এসব বই সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এর ফলে একাডেমিক স্বাধীনতা ও জ্ঞানের পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ আফগানিস্তানে মুক্তবুদ্ধি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আরও এক দফা চাপ সৃষ্টি করবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টিকে “বুদ্ধিবৃত্তিক নিধন” হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

তবে তালেবান কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি অভ্যন্তরীণ সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং এর উদ্দেশ্য সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন