রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সৌদি আরবের সিনিয়র ওলামা পরিষদের সভাপতি ও গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ আল-শায়খ আজ (মঙ্গলবার) আকস্মিকভাবে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বিষয়টি দেশটির রিয়্যাল কোর্ট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাসূলিয়তের আদর্শ ও ইসলামের নিয়ম-কানুন, শরিয়া ও মুসলিম সমাজের কল্যাণে তাঁর অবদান স্মরণীয়”।

রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান শায়খের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সহমর্যাদার ও মুসল্লিম বিশ্ববাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

তার জানাজা আজই বাদ আসর রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাদ আসর সালাফি মানে আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী মসজিদুল হারাম (মক্কার), মসজিদে নববী (মদিনা) এবং রিয়াদসহ দেশের সব মসজিদে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাদশাহ সালমান এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন।

১৯৯৯ সালে প্রণীতভাবে গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন শায়খ আবদুল আজিজ আল-শায়খ। সিনিয়র ওলামা পরিষদ ও ইসলামী গবেষণা ও ইফতা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ধর্মীয় সিদ্ধান্ত (ফতোয়া), শাস্ত্রীয় অনুশীলন ও সামাজিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে একটি সুবিস্তৃত কাজ রেখে গেছেন।

মক্কায় ১৯৪৩ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন; খুব কম বয়সে কোরআন হিফজ করেন এবং মাত্র ২০ বছর বয়সে একটি দৃষ্টিহীনতার সম্মুখীন হন। সত্ত্বেও ধর্মীয় পড়াশোনা ও বৈচিত্র্যময় ইসলামি গবেষণায় অব্যাহত ছিলেন। শরিয়া ও ফিকহ বিষয়ে তার গ্রন্থাবলি মুসলিম শিক্ষিজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য আজও নির্দেশক হিসেবে সম্মানিত।

শায়খ আবদুল আজিজ আল-শায়খ একটি সময়ের ইসলামি চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন — যেখানে ধর্মীয় নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের পাশাপাশি উচ্চমাত্রার শিক্ষালাভ ও নিয়মানুগ দৃষ্টিভঙ্গা পোষণ করা হতো। ইসলামী দোটানার মধ্যে যেমন হালাল-হারাম, আকিদা ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে তাঁর শব্দ ও কাজ দুইই যেমন প্রভাবশালী ছিল, তেমনই এটা স্পষ্ট যে তার মৃত্যু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতার জন্য একটি বড় শূণ্যতা রেখে যাবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন