কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একাধিক শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) সদস্য পরিচয়ে একটি চক্র এই চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত।
বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষকরা রয়েছেন এই হুমকির টার্গেটে। তাদের মধ্যে অন্তত দুইজন শিক্ষক ইতোমধ্যেই বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। বিষয়টি গোপন রাখলেও এখন তা প্রকাশ্যে এসেছে এবং এলাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
মিরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়শ্রী পাল জানান, “একটি অচেনা নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে পরিচয় দেয় পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে। তারা আমার ও পরিবারের তথ্য জানিয়ে ভয় দেখায়। একপর্যায়ে চাঁদা চায় এবং না দিলে ক্ষতির হুমকি দেয়।”
একই ধরনের ফোন পান একই স্কুলের শিক্ষক বিভাস কুমার পাল। তিনি বলেন, “ভয়ে আমি তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। কিন্তু এরপরও হুমকি বন্ধ হয়নি।”
এছাড়া উত্তম দেবনাথ ও গোপাল দেবনাথ নামের আরও দুই কলেজশিক্ষকের কাছেও একই নম্বর থেকে ফোন আসে এবং বিকাশে অর্থ পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।
শিক্ষকদের আশঙ্কা, তারা কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন, যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে।
মিরপুর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম বলেন, “এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। কেউ হুমকির মুখে পড়লে দ্রুত থানায় জানানো উচিত।”
র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুদীপ্ত সরকার জানান, “যেসব নম্বর থেকে হুমকি এসেছে, সেগুলোর লোকেশন মাদারীপুর জেলায় শনাক্ত হয়েছে। এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ বলেই মনে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।”
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব বিশ্বাস অভিযোগ করেন, “উপজেলার একের পর এক সনাতন শিক্ষককে টার্গেট করে এই হুমকি দেয়া হচ্ছে। এটি নিছক প্রতারণা নয়, বরং একটি সংগঠিত ও সুপরিকল্পিত হামলার অংশও হতে পারে। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

