বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিএনপিকে চায় ৪১%, জামায়াতের পক্ষে ৩০%, ভোট বেড়েছে আ. লীগের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জনমতের পালাবদল স্পষ্ট। ইনোভিশন কনসালটিং পরিচালিত সেপ্টেম্বর মাসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—৪১.৩০ শতাংশ ভোটার তাদের পক্ষে মত দিয়েছেন।
চমক হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যাদের প্রতি ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ৩০.৩০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও, আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চান ১৮.৮০ শতাংশ নাগরিক। যা আগের জরিপের তুলনায় ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’-এর দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৫৭.৫ শতাংশ মনে করেন, নতুন সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
এরপরেই রয়েছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ (৫৪.৬%) এবং দুর্নীতি হ্রাস ও প্রশাসনিক সংস্কার।

আওয়ামী লীগের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সবচেয়ে বেশি উত্তরদাতা—৩৩.৪৩%।
বরং জামায়াতে ইসলামীর প্রতি উচ্চ সন্তুষ্টির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০.৩৪ শতাংশে।
বিএনপি পেয়েছে ২১.৫% উচ্চ সন্তুষ্টি এবং ২৭.৬% অসন্তুষ্টি।

পরবর্তী সরকার গঠনের যোগ্য দল হিসেবে ৩৯.১% উত্তরদাতা বেছে নিয়েছেন বিএনপিকে।
জামায়াতকে পছন্দ করেছেন ২৮.১%।
বিএনপির সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি মনে করেন ৪০% অংশগ্রহণকারী।

জরিপ বলছে, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের কাছে প্রার্থীর যোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (৬৫.৫%)।
এরপর রয়েছে প্রার্থীর আগের কাজ (১৪.৮%) এবং দলের প্রতীক (১৪.৭%)।

তরুণ ভোটাররা কর্মদক্ষতা ও নীতিবোধকে গুরুত্ব দিলেও, প্রবীণ ভোটারদের বড় অংশ এখনও দলের প্রতীক দেখে ভোট দিতে আগ্রহী।


৪৫.৭৯% মনে করেন সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে, অপরদিকে ৪৫.৫৮% মনে করেন, বিচারাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান অধিক স্পষ্ট।

সাবেক রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান পেয়েছেন সর্বোচ্চ অনুকম্পা।
তরুণ প্রজন্মের (জেনারেশন জেড) মধ্যে শেখ মুজিবের প্রতি সমর্থন বেশি।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাকে সবচেয়ে বেশি ‘শূন্য রেটিং’ (২১.৬%) দিয়েছেন উত্তরদাতারা, যা তার জনপ্রিয়তা নিয়ে মেরুকরণ নির্দেশ করে।

‘পিপলস পারসেপশনস অন ইলেকশন’ শীর্ষক জরিপটি পরিচালনা করেছে ইনোভিশন কনসালটিং, সহায়তায় ছিল ভয়েস ফর রিফর্ম ও বিআরএআইএন।
ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবাইয়াত সরওয়ার।

আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ফাহিম মাশরুর (ভয়েস ফর রিফর্ম), শফিকুর রহমান (বিআরএআইএন) ও জাইমা ইসলাম (দ্য ডেইলি স্টার)।

গত মার্চের জরিপে বিএনপি পেয়েছিল ৪১.৭% এবং জামায়াত ৩১.৬% ভোট।
আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা তখন ছিল মাত্র ১০%, যা সেপ্টেম্বরে ১৮.৮% হয়েছে—বাড়লেও এখনও পিছিয়ে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন