আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সময় দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এক লাখেরও বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে সব বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে মাঠে প্রায় ৩০ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন আছে। নির্বাচনের সময় তা বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ড সদস্যরাও মাঠে থাকবে। সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের সফলতা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নয়, রাজনৈতিক দল ও জনগণের অংশগ্রহণের ওপরও নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। “যখন জনগণ নির্বাচনমুখী হয়, তখন কাউকে আর আটকে রাখা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য থাকলে নির্বাচন আরও সহজ হয়,” বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অস্ত্র ব্যবহার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে আরও অভিযান চলবে।
দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই এবারের পূজা উৎসব হোক শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন। কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”
সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর মিছিল ও জনসমাবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “এদের অনেকেই জামিনে বের হয়ে ফের অপকর্মে জড়াচ্ছে। যাতে তারা সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে সরকার আইনগত পর্যালোচনা করছে।”

