বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘শাপলা বা পিআর ছাড়া নির্বাচন নয়’ এমন হুমকি সংঘাত ডেকে আনবে: জোনায়েদ সাকি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

‘পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক অনুপাত) পদ্ধতি বা শাপলা প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হবে না’—এমন হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যকে বিপজ্জনক ও অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সম্পাদকীয় আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “কেউ যদি বলে, ‘আমার দাবি না মানলে নির্বাচন হবে না’, তাহলে সেটা সংঘাতের দিকেই দেশকে ঠেলে দেয়। এটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নয়।”

সাকি বলেন, “শক্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মীমাংসা চাইলে সেটা স্বাভাবিকভাবেই সংঘাত ডেকে আনবে। এক পক্ষ শক্তি দেখালে, অন্য পক্ষও প্রস্তুত হবে পাল্টা শক্তি দেখাতে। এভাবে তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলে না।”

জামায়াতে ইসলামীর নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা চাইলে এমন দাবি তুলতেই পারে। সেটা তাদের অধিকার। তবে দাবির ধরন যদি হয়—‘পিআর না হলে নির্বাচন হবে না’, তাহলে সেটা স্পষ্টতই সংকটময় ও বিপজ্জনক বার্তা দেয়।”

উদাহরণ টেনে বলেন, “হঠাৎ কেউ যদি বলে, ‘শাপলা প্রতীক না পেলে নির্বাচন নয়’, সেটা তো দায়িত্বশীল অবস্থান নয়। বরং গণতান্ত্রিক আলোচনাকে ধ্বংস করে।”

প্রথম ঐকমত্য বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে সাকি বলেন, “সেখানে একটি পদ্ধতি নির্ধারণ হয়েছিল—যেখানে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, সেগুলোর মীমাংসা হবে জনগণের মাধ্যমে, অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে। এটা ছিল একটি গণতান্ত্রিক পথ। এখন কেউ যদি সেটি ছেড়ে শক্তি প্রদর্শনের পথে যায়, সেটি সংঘাতের সূচনা ছাড়া আর কিছু নয়।”

সাকি জানান, ৭০ অনুচ্ছেদে চারটি ব্যতিক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে দুটি নিয়ে সকলের ঐকমত্য ছিল, বাকি দুটি নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সিদ্ধান্ত হয়েছিল—দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করবে, এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে পরিবর্তন আসবে।

সাকি বলেন, “প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের উচিত গণতান্ত্রিক যুক্তি দিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরা। হুমকি বা চূড়ান্ত শর্তারোপের মাধ্যমে কোনো দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বরং এতে দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন