বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি — জাতিসংঘে ড. ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে বাংলা ভাষণে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, “এই বছরের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ কেবল একটি মোছা ঘটনা ছিল না,এটি ছিল সমাজের অন্ধকারশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি ভবিষ্যতের সূচনা।”

উক্ত ভাষণে তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রীয় নিয়ম-ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে যে সংস্কার প্রয়োজন তা আমরা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছি।”

ড. ইউনূস ভাষণে উল্লেখ করেছেন, ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, যারা জনমত যাচাই ও গভীর পর্যালোচনার ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়ন করছে। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে, যেখানে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে আলোচনায় অর্থ সহ হলেও যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, “আগামী নির্বাচনে যেই দল হোক না কেন, আমাদের সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে অবহেলা করার সুযোগ আর থাকবে না।”

ইউএনজিএতে ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, দেশের গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ক অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য আমরা জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তারা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে সুপারিশ করেছে, যেগুলো আমরা জাতীয় সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেছি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিযুক্ত কনভেনশন ও চুক্তি– যেমন গুম বিরোধী কনভেনশন, নির্যাতন বিরোধী চুক্তি ইত্যাদির ঐচ্ছিক প্রোটোকল– র প্রেক্ষিতে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কাজ চলছে।

ড. ইউনূস বলেন, “দেশ থেকে পাচার হওয়া অবৈধ সম্পদ ফিরিয়ে আনা আমাদের অগ্রাধিকার। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও সহযোগিতা ছাড়া তা করতে পারব না। তাই সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। গত বছর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’–এর পর সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং দেশের শাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

ইউএনজিএয়ে এই ভাষণকে একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার উদ্যোগকে তুলে ধরার স্পষ্ট চেষ্ট হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও দেশের নতুন রাজনৈতিক ফেজে এই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন– ই দুটি বিষয় রাজনৈতিক ও নাগরিক স্তরে নজর কাড়তে সক্ষম হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন