জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে তার আগমনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক শহরে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিক্ষোভ। হাজারো মানুষ শুক্রবার টাইমস স্কয়ারে সমবেত হয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান জানান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
“ফ্রি প্যালেস্টাইন”, “গাজাকে অনাহারে মারো না”, “গণহত্যার দায়ে বিচার চাই”—এমন নানা স্লোগানে মুখর ছিল টাইমস স্কয়ার। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা, কেফিয়েহ স্কার্ফ এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী ব্যানার নিয়ে মিছিল করে জাতিসংঘ সদর দফতরের দিকে অগ্রসর হন।
একই দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তার বক্তৃতা শুরুর সময় বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি সভাকক্ষ ত্যাগ করেন, যা তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত এক বছরে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং বিশালসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বেড়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং কিছু বিশেষজ্ঞ এটিকে গণহত্যা বলেও উল্লেখ করেছেন।
ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, “২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষ জিম্মি হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।”
নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও মতবিরোধ স্পষ্ট। তার ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, কিছু বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার ও বিতাড়ন করা উচিত, কারণ তাদের কর্মকাণ্ড “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণ ও নিউইয়র্কে বিক্ষোভ—দুটিই মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বৈশ্বিক বিভক্তির প্রতিফলন। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন করা এবং ফিলিস্তিনের মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

