রাজধানীর আজিমপুর দায়রা শরীফ এলাকায় অবস্থিত একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি যৌথ টিম। হাজি সেলিমের মালিকানাধীন ‘মদিনা ডেভেলপার’ কোম্পানির নির্মিত ওই ভবনের বেসমেন্টে গোপন একটি গ্যারেজ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৬টি গাড়ি, যার মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ।
‘গুলশান আরা মাসুদা টাওয়ার’ নামে পরিচিত ১২ তলা এই ভবনে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শুরু হয় এই অভিযান। যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে ভবনের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হয়নি, যদিও পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ভাড়াটিয়াদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
অভিযানে ভবনের বেসমেন্টে একটি গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ৬টি গাড়ি। এর মধ্যে একটি সাদা রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ির মালিকানা হাজি সেলিমের, অপরটি ‘মদিনা ট্রেডিং করপোরেশন’-এর নামে নিবন্ধিত। বাকি গাড়িগুলোর মালিকানা একাধিক ব্যক্তি ও একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও, কোনটিরই বৈধ কাগজপত্র বা চাবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অভিযানে থাকা বাহিনী।
ঘটনার পর ভবনের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে। জব্দ করা গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহারকারী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, বহুতল এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য নয়, বরং ছিল নিষিদ্ধ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গোপন মিলনকেন্দ্র। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা নিয়মিত এখানে যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রবেশ ছিল নিয়মিত চিত্র।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাজি সেলিম এবং তার বড় ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অপর ছেলে ইরফান সেলিম এখনো পলাতক।

