সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইলিশ আহরণ ও উৎপাদনে অব্যাহত হ্রাস, ৪ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৯ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশে ইলিশ মাছের উৎপাদন গত কয়েক বছর ধরে স্থির বা হ্রাসমান থাকার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের পর থেকে ইলিশ আহরণে প্রায় ৯ শতাংশের বেশি কমতি এসেছে, যার প্রভাব বাজারে ইলিশের দামসহ রপ্তানিতেও পড়েছে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, ‘প্রাকৃতিক কারণ এবং মানবসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এবারও ইলিশের উৎপাদন কমে গেছে। দাম কমানো সম্ভব হয়নি।’

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে ইলিশ আহরণ গত বছরের একই সময়ে তুলনায় যথাক্রমে ৩৩ শতাংশ ও ৪৭ শতাংশ কম হয়েছে। জাতীয় উৎপাদন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫১২ হাজার মেট্রিক টন ধারণা করা হচ্ছে, যা চার বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ইলিশ উৎপাদনের হ্রাসের পেছনে রয়েছে নদীর নাব্যতা সংকট, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণ। বিশেষত ভোলা-নোয়াখালী ও ভোলা-পটুয়াখালীর মোহনাগুলোতে চর-ডুবোচর বৃদ্ধির কারণে মাছের প্রজনন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, কারেন্ট ও মশারি জালের অবৈধ ব্যবহারের ফলে জাটকা শিকার বাড়ায় প্রজনন হ্রাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজার হাজার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করেছে এবং জেলেদের আটক করেছে, কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয়নি।

ইলিশ রপ্তানির ক্ষেত্রেও বাধা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০১২ সালে রপ্তানি বন্ধের পর ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে সীমিত পরিসরে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়েছে। তবে মাছের অভাবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তব রপ্তানি অনেক কম। ২০২৫ সালের দুর্গাপূজার জন্য অনুমোদিত ১,২০০ টনের মধ্যে মাত্র ৮১.৪৩৮ টন রপ্তানি সম্ভব হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইলিশ উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নদীর পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ ও প্রজনন এলাকা সংরক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন