রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে রাজধানীর নিকেতন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির গুলশান বিভাগ একটি অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, বি এম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা, উসকানি ও হত্যা মামলা সহ অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই ঢাকায় দায়ের করা। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিয়ে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও।
সূত্র মতে, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর ডিবি অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা, উসকানি ও অবৈধ সমাবেশ আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের তালিকা:
সলিম পাটোয়ারী – লক্ষ্মীপুর সদর যুবলীগ সভাপতি,মো. আবু সাইদ – তুরাগ থানা আওয়ামী লীগ কর্মী,মাসুদ পারভেজ – জাতীয় শ্রমিক লীগ, কমলাপুর শাখা,মাহবুব আলম – বংশাল থানা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক,খাজা টিপু ফরহাদ ওরফে মোল্লা – ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদক,কামাল হোসেন মৃধা – সাবেক সভাপতি, ২৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ,সাগর হাসান – রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সদস্য।
বি এম মোজাম্মেল হকের গ্রেপ্তারে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে একাধিক সূত্র বলছে—সাম্প্রতিককালে নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রমে তার সংশ্লিষ্টতা তদন্তের আওতায় ছিল।
এ বিষয়ে একটি সূত্র জানায়, “তিনি (মোজাম্মেল) কিছু বিতর্কিত বৈঠকে অংশ নিয়েছেন—যা কেন্দ্রের নজরে আসে।”
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পুলিশের ভাষ্য, রাজধানীতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উসকানিমূলক তৎপরতা দমন করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

