“বাংলাদেশের স্বার্থই বিএনপির কূটনীতির মেরুদণ্ড”— এমনই মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ হোক বা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
দীর্ঘদিন পর কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমার দেশের মানুষ, আমার সার্বভৌমত্ব, আমার স্বার্থ— এই তিনটি রক্ষা করাই বিএনপির প্রধান নীতি। এর বাইরে আমরা কিছু ভাবি না।”
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও সাংবাদিক কাদির কল্লোল। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান প্রায় দুই দশক পর কোনো গণমাধ্যমকে সরাসরি মুখোমুখি সাক্ষাৎকার দেন। দুই পর্বে প্রচারিত এ সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব সম্প্রচারিত হয় মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর)।
বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে প্রশ্ন আসে, “বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে কি বৈশ্বিক রাজনীতির ট্রেন্ড বলা যায়? উদাহরণস্বরূপ, ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’।”
উত্তরে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, “না, তাদেরটা তারা বলেছে। আমি বাংলাদেশি। আমার কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ বড়, আমার জনগণের স্বার্থ বড়। কে কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। এটা জটিল কিছু না, খুবই সরল—সবার আগে বাংলাদেশ।”
তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে এসেছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্মিত হবে দেশের স্বার্থকেই কেন্দ্রে রেখে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বাণিজ্যিক চুক্তি, বা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি থাকবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে গিয়ে দেশের স্বার্থ যদি ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে সে সম্পর্কের যৌক্তিকতা থাকে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে।”
সাক্ষাৎকারের অন্য অংশে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও ‘সমতা ও সম্মানপূর্ণ’ সম্পর্কের কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “একতরফা লাভ নয়, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থে গঠিত সম্পর্কই টেকসই হয়।”
সাক্ষাৎকারে সংস্কারের প্রশ্নে তারেক রহমানের কৌশলী জবাব ও পররাষ্ট্রনীতিতে শক্ত অবস্থান বিশ্লেষকদের মতে, একটি পরিবর্তিত বিএনপির ইঙ্গিত বহন করে। ছাত্রদল, যুবদল ও মূল সংগঠনে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাংগঠনিক পরিবর্তন এনেছে দলটি।
তারেক রহমানের ভাষায়, “আমরা কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির মুখাপেক্ষী হয়ে দেশ চালাতে চাই না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, এবং তা স্বাধীনভাবেই চলবে।”

