গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাস যখন পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে ৩ জন ছিলেন ত্রাণ সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা সরাসরি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন অংশে বিমান ও স্থল অভিযান চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে।\
যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসেছে ইসরায়েল ও হামাস, তখন ইসরায়েলি হামলার এমন ঘটনা আলোচনা প্রক্রিয়ার আন্তরিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে আন্তর্জাতিক মহলে। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনুস, দেইর আল-বালাহ এবং শুজাইয়া অঞ্চলে হামলায় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে মিশরের উপকূলীয় শহর শারম এল-শেখ-এ ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে মিশর ও কাতার। ‘আল কাহেরা নিউজ’ জানিয়েছে, আলোচনার লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির রূপরেখায় একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রন ডারমার, আর হামাসের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ নেতা খালিল আল-হাইয়া।
যদিও হামাস যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে সকল পক্ষকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, তারপরও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আক্রমণ বন্ধ রাখেনি। গত সপ্তাহে নতুন করে শুরু হওয়া হামলায় ইতোমধ্যেই ১০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজা উপত্যকায় চলমান হামলায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবার চরম সংকটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
গাজায় অবস্থানরত এক ত্রাণকর্মী জানান, “মানুষ এখন শুধু বাঁচার জন্য লড়ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে, আর এর শেষ কোথায় কেউ জানে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল থাকলেও, যখন আলোচনা চলাকালেই হামলা অব্যাহত থাকে, তখন তা আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সালেহ হোসেন বলেন, “যুদ্ধবিরতির নামে যদি একপাক্ষিক আগ্রাসন চলে, তাহলে সেটা শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”
গাজায় যুদ্ধবিরতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক চাপ ও মাঠ পর্যায়ের মানবিক বাস্তবতার ওপর। আর সেই বাস্তবতা প্রতিদিনই আরও করুণ হয়ে উঠছে।

