সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধির আশা: বিশ্বব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসায় বেসরকারি ভোগ বেড়েছে, যার ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: অক্টোবর ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সংস্থার বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্য পেম।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কিছুটা ধীরগতির পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতিতে গতি ফিরেছে। মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং আমদানি স্বাভাবিক হচ্ছে।

তবে চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। বিশেষ করে—

বেসরকারি বিনিয়োগে মন্থর গতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি স্থবির, ব্যাংকিং খাতে উচ্চ অনাদায়ী ঋণ, দুর্বল রাজস্ব আহরণ।

বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা করছে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাজস্ব ঘাটতি ৫%–এর নিচে থাকতে পারে

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতির ফলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে থাকবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নিম্নলিখিত সংস্কারগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত:

ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা:
অনাদায়ী ঋণ ব্যবস্থাপনা, ব্যাংক পুনর্গঠন ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন:
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থায় অগ্রগতি জরুরি।

রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো:
কর প্রশাসন সংস্কার, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির পদক্ষেপ এবং কর ব্যয় হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশকে:

স্থানিক পরিকল্পনা জোরদার,

নগর স্থানীয় সরকারকে আর্থিকভাবে ক্ষমতায়ন,

উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ ও দক্ষতা বৃদ্ধি,

এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টরাল মাস্টার প্ল্যান হালনাগাদ করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন