সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলাদেশ কিনছে চীনের ২০টি জে-১০সি যুদ্ধবিমান, ব্যয় ২২০ কোটি ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ সরকার বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (জিটুজি) এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭,০৬০ কোটি টাকা। এই অর্থ ২০৩৫-৩৬ অর্থবছরের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।

সরকারের দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী:

‍প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম ধরা হয়েছে ৬ কোটি ডলার

২০টি বিমানের জন্য মোট ১২০ কোটি ডলার (প্রায় ১৪,৭৬০ কোটি টাকা)

প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ইত্যাদি বাবদ অতিরিক্ত ৮২ কোটি ডলার

বীমা, ভ্যাট, কমিশন ও অন্যান্য বাবদ আরও কিছু ব্যয় সংযোজন করে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২২০ কোটি ডলার

চলতি বছরের মার্চে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময়ই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। সেই সফরের পরপরই বিমানবাহিনীর প্রধানকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি মূল্য, পরিশোধ শর্ত, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই ও দরপত্র চূড়ান্ত করবে।

জে-১০সি যুদ্ধবিমানটি মূলত চীনা বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত মডেলের রপ্তানি সংস্করণ। এটি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, যা আকাশ-আকাশ ও আকাশ-ভূমি দুই ধরনের মিশনে কার্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিমান আন্তর্জাতিক মানের এবং চীনের বাইই অ্যারোবেটিক টিমের প্রদর্শনী বহরেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এর উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং ট্যাংকার বিমানের সহায়তায় এটি দীর্ঘ দূরত্বে যুদ্ধ সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল এ এন এম মনিরুজ্জামান (অব.) বলেন, “বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অনেকদিন ধরেই নতুন যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন ছিল। তবে কেনার সময় ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশেষ করে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-চীন টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এমন বড় চুক্তি কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।”

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে রয়েছে:

মোট এয়ারক্রাফট: ২১২টি

ফাইটার জেট: ৪৪টি (এর মধ্যে ৩৬টি এফ-৭)

রাশিয়ান মিগ-২৯বি: ৮টি

লাইট অ্যাটাক বিমান: ইয়াক-১৩০

জে-১০সি যুক্ত হলে বিমান বাহিনীর সক্ষমতা এবং আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন