বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় আছাদুর রহমান (৩৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মোল্লাবাড়ি এলাকায় সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আছাদুর রহমান সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সাতবসু গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি দৈবজ্ঞহাটি বিশেশ্বর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোড়েলগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন শিক্ষক আছাদুর। দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহত শিক্ষকের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিজুস কুমার সাহা জানান, “আছাদুর স্যারের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলে করে স্কুলে আসছিলেন তিনি। এমন দুর্ঘটনা খুবই দুঃখজনক।”
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ খান জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাই। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করতে হাইওয়ে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছে, তাদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চলছে।”
জানা যায়, মাত্র এক বছর এক মাস আগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে দৈবজ্ঞহাটি বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন আছাদুর রহমান। শিক্ষকতার পেশায় সদ্য যোগ দিলেও তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

