বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রাজশাহীতে বাড়ছে সাপে কাটা রোগী

ডেস্ক রিপোর্ট।।

রাজশাহী অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরেই শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এক হাজারের বেশি রোগী। এরমধ্যে বিষধর সাপের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসেলস ভাইপার নামের একটি বিষধর সাপের আক্রমণ গত আট বছরে চারগুণ বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন ১,১৬৭ জন। এর মধ্যে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত ২৪৭ জন এবং অবিষধর সাপে কাটা ৯২০ জন। শুধু রাসেলস ভাইপারের কামড়ে প্রাণ গেছে ১০ জনের। গত বছর এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১,৩৭০ জন, মারা গিয়েছিলেন ৪০ জন।

বিশেষ করে মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে যেখানে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২১ জন, সেখানে ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ জনে। চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ জন। এই সাপের কামড়ে মৃত্যুহার প্রায় ২৩%, যা চিকিৎসকদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি মাসেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১২ শয্যার বিশেষায়িত স্নেক বাইট ওয়ার্ড। ওয়ার্ডে থাকবে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স, পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম, এবং জাতীয় গাইডলাইন অনুযায়ী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী।

ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ৮ জন নার্স বাছাই করা হয়েছে এবং তারা সাপে কাটা রোগী ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে রোগীরা দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পাবেন।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন:

রাতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন

ক্ষেত-খামারে কাজের সময় গামবুট পরুন

অন্ধকারে চলাচলে টর্চলাইট ও লাঠি ব্যবহার করুন

ঘরবাড়ি ও আশপাশের ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার রাখুন

চারঘাট উপজেলার কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, “ধানক্ষেতে রাসেলস ভাইপার কামড় দেয়। প্রথমে বুঝিনি, শরীর ফুলতে শুরু করলে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা নেওয়ায় প্রাণে বেঁচেছি।”

বাঘা উপজেলার গৃহবধূ রহিমা খাতুন জানান, “রাতে ঘুমানোর সময় বিছানায় উঠে কেউটে সাপে কামড় দেয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ায় এখন সুস্থ আছি। তবে এর আগেও আমাদের গ্রামে দুজন মারা গেছেন এই সাপের কামড়ে।”

এক কলেজছাত্র রাজিব হোসেন বলেন, “নদীর ধারে বসে ছিলাম, হঠাৎ পায়ে সাপ কামড় দেয়। হাসপাতালে এনে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এলাকায় প্রায়ই রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব দেখা যায়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।”

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহমেদ বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানিগুলো সময়মতো সরবরাহ করছে না, ফলে অনেক সময় ধার করে অ্যান্টিভেনম জোগাড় করতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালুর মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যাবে। তবে অনেকে প্রথমে ওঝার কাছে যান বা হাসপাতালে আসতে দেরি করেন, এতে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। আমরা সচেতনতা বাড়াতে চাই।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন