সরকারি মালিকানাধীন এলপিজি সিলিন্ডার সস্তা দামে থাকা সত্ত্বেও প্রান্তিক ভোক্তাদের কাছে সঠিক মূল্যেই পৌঁছাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম। তিনি বলেছেন, বাজারে রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটারের মাধ্যমে এলপিজির দাম অনিয়মিতভাবে বাড়ানো হচ্ছে, যেখানে রেগুলেটরি কমিশন যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি দিতে ব্যর্থ।
শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ড. শামসুল আলম বলেন, “সরকারি মালিকানাধীন এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমানে ৬০০ টাকা হলেও বাজারে তা ভিন্নভাবে বিক্রি হচ্ছে। ২০২১ সালে প্রণীত নীতিতে লাইসেন্স দেওয়ার তিনটি প্রবিধান থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটারের দায়িত্ব স্পষ্ট নয় এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি।”
তিনি আরও বলেন, “রেগুলেটরি কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের অভাব ঘুষের সুযোগ তৈরি করছে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ড. শামসুল আলম দাবি করেন, “লাইসেন্সধারীদের পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান এবং অভ্যন্তরীণ প্রবিধান বাস্তবায়ন করে রেগুলেটরকে শক্তিশালী না করা গেলে, ভোক্তা সুরক্ষা ও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।”
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখারসহ অন্যান্যরা।

