দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ বিভিন্ন নৃশংস অপরাধের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দলগত বিচারের দাবি আরও জোরালো হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এরই মধ্যে প্রসিকিউশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার চেয়ে অন্য একটি রাজনৈতিক দল—জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)—ইতিমধ্যে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু করতে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে।
এনসিপির অভিযোগ জমা পড়লে তা এনডিএমের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তদন্ত হতে পারে, যা মামলাটিকে আরও শক্তিশালী করবে।
গত ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন যে, সংগঠন হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “এনডিএম নামের একটি দল আগেই অভিযোগ দিয়েছিল। আমরা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করছি। সুতরাং বলা যেতে পারে, এই মুহূর্তে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপরাধী সংগঠন হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছি।”
এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ গত বছরের ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও তাদের ১৪ দলীয় শরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যার সরাসরি হুকুমদাতা হিসেবে বিচারের দাবি জানিয়ে অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত ২১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তিনি দলীয় প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণের হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করে দল হিসেবে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, আমরা মনে করি দল হিসেবে তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, দেড় সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের আহত হওয়ার পর জনগণ দায়ী দলকে পুনর্বাসন করতে দেবে না।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংক্ষুব্ধ যে কেউ, এমনকি শহীদ পরিবার থেকেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারবে। এনসিপির এই পদক্ষেপ আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়াকে নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

