বিবাহবন্ধনে কলহ বা ভুল বোঝাবুঝি অনেক সময় সাধারণ ঘটনা হলেও, অনেক পুরুষ রাগের মুহূর্তে স্ত্রীর উদ্দেশে উচ্চারণ করে ফেলেন ‘তালাক’ শব্দটি। তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এই রকম অবস্থাতেও তালাক সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে যায় বলে জানাচ্ছেন আলেমরা।
‘ঠাট্টা করেও তালাক কার্যকর হয়’
ইসলামি আইন অনুসারে, স্বামী যদি রাগ, ঠাট্টা বা নিয়ত ছাড়া শুধু বলেই ফেলেন “তালাক”, “তোমাকে তালাক দিলাম” বা “তুমি আমার জন্য হারাম”— তাও তালাক হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“তিনটি জিনিস রয়েছে, যেগুলো সিরিয়াসভাবে বললেও বাস্তবায়িত হয় এবং ঠাট্টা করলেও বাস্তবায়িত হয়: বিয়ে, তালাক এবং তালাক প্রত্যাহার।”
(সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি)
তিন তালাক মানেই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ
কোরআন শরিফের সুরা বাকারা (আয়াত ২২৯-২৩০)-তে বলা হয়েছে,
“তালাক দুইবার পর্যন্ত বৈধ; এরপর হয় স্ত্রীকে সম্মানের সঙ্গে রাখবে, না হয় সুন্দরভাবে বিদায় দেবে।”
তবে তৃতীয় তালাকের পর আর ফিরে আসার সুযোগ নেই, যতক্ষণ না সেই স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং স্বাভাবিকভাবে তার সেই বিয়ে ভেঙে যায় বা স্বামী মারা যায়।
এ অবস্থায় ইসলাম কঠোর সতর্কবার্তা দেয় তালাকের ব্যাপারে আবেগ নয়, বরং বিচক্ষণতা ও সংযমের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
ইসলাম বলে তালাক বৈধ, কিন্তু অপছন্দনীয়
ইসলামে তালাক বৈধ হলেও এটি সবচেয়ে অপছন্দনীয় বৈধ কাজ হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে,
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল কাজ হলো তালাক।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য ঝগড়া বা রাগের বশবর্তী হয়ে তালাক উচ্চারণ করা বিপদজনক ও অপরিণামদর্শিতার পরিচয়। অনেক সময় ইচ্ছা না থাকলেও রাগের মাথায় দেওয়া তালাক চূড়ান্তভাবে বৈধ হয়ে যায়, যার ফলে দাম্পত্য জীবন ভেঙে পড়তে পারে।

