জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের সম্ভাবনা। রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্যের মধ্যেও প্রস্তুতি, সময় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার সনদ স্বাক্ষরের পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে বেশ কয়েক দফা বৈঠকেও রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে একমতে পৌঁছাতে পারেনি। বিএনপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি চাইছে নির্বাচনের আগেই গণভোট হোক।
কমিশনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সরকারকে অর্পণ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সুপারিশ প্রস্তাবিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ১২ কোটির বেশি ভোটার ও ৪০ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের মতে, এক দিনে দুই ধরনের ভোট আয়োজন ব্যয় সাশ্রয়ী ও কার্যকর হবে। আলাদা দিনে ভোট করতে গেলে অতিরিক্ত বাজেট ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, “সরকার যদি গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। একই দিনে হলে ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং এটি বাস্তবায়নযোগ্য।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই ভোট এক দিনে হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বিশেষ প্রচারণা চালাতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে বাড়াতে হবে সক্ষমতা। তবে তারা এটাও মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
বাংলাদেশে গণভোটের ইতিহাস বেশ পুরোনো হলেও বিরল। সংবিধানে প্রথম গণভোটের বিধান আসে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে। পরবর্তীতে এটি বাতিল ও পুনর্বহাল হয়। এখন চতুর্থবারের মতো গণভোট হতে যাচ্ছে, যা নতুন সংবিধান কাঠামোর ওপর জনমত যাচাইয়ের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

