আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তালেবানকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামাবাদ আফগানিস্তানে জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সরকার দেখতে চায় এবং একদিন আফগান জনগণ মুক্তভাবে এমন একটি সরকার পাবে বলে তারা আশাবাদী।
সম্প্রতি আফগান-পাক সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর রোববার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান এ অবস্থান তুলে ধরে। ইসলামাবাদের দাবি, সীমান্তে তাদের সেনাদের ওপর ‘সশস্ত্র হামলার’ জবাবে আত্মরক্ষার্থে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানে তালেবান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর ঘাঁটি, অস্ত্রভাণ্ডার এবং জনবল ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে ‘সতর্ক পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে। তবে যে কোনো ধরনের উসকানির জবাব দেওয়া হবে যথাযথ ও দৃঢ়ভাবে।” পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে নাগরিক ও ভূখণ্ড রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফরকালে দেওয়া বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান বলছে, এসব মন্তব্য আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের মনিটরিং রিপোর্টগুলোতে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। পাকিস্তান দাবি করে, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ এবং ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামের দুটি গোষ্ঠী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ৪০ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পর, এখন থেকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
বিবৃতিতে তালেবান সরকারের উদ্দেশে বলা হয়েছে, “আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আপনারা দায় এড়াতে পারেন না। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, আঞ্চলিকভাবে সংযুক্ত ও উন্নয়নশীল আফগানিস্তান দেখতে চাই, যেখানে সন্ত্রাসবাদের কোনো ঠাঁই নেই।”

