ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার একাধিক ফোনালাপ প্রকাশের ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ উপ-সামরিক সচিব (ডিএসপিএম) কর্নেল রাজিবের সঙ্গে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের কিছু অংশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শোনানো হলেও, দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আংশিক কথোপকথন প্রকাশ করে সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়।
আইনজীবী মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে যে, পূর্ণাঙ্গ ফোনালাপ এবং সেটির ফরেনসিক রিপোর্ট কেন জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না? প্রকাশিত অংশে শেখ হাসিনা ‘শুরুতেই দিবা’ বললেও, ‘দিবা’ শব্দটি কীসের নির্দেশ তা প্রসিকিউশনের ব্যাখ্যা অনুসারে ‘গুলি’ হলেও, এর অন্য কোনো অর্থ থাকতে পারে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল কিছু অংশ প্রকাশ করে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ফোনালাপের সম্পূর্ণ অংশ ও তার পূর্বাপর প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ না করলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হতে পারে।” তাদের মতে, আদালতকে দ্রুততম সময়ে পুরো কথোপকথনের ফরেনসিক প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি দাখিল করতে হবে। মামলার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এটি অত্যাবশ্যক।

