বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইসরায়েলের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচ খেলায় ইতালিতে ব্যাপক বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে ইতালি বনাম ইসরায়েল ম্যাচ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইতালির উদিনে শহর। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নামে হাজারো বিক্ষোভকারী। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ব্লুএনার্জি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ, যেখানে ইতালি শেষ পর্যন্ত ৩–০ গোলে জয়লাভ করে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে ‘যুদ্ধাপরাধ’ সংঘটনের অভিযোগ তুলে একাধিক প্রো-ফিলিস্তিনি সংগঠন এই ম্যাচে ইসরায়েলি দলের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে। তারা ইতালি ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ জানায়, যেন ইতালির জাতীয় দল এই ম্যাচে অংশ না নেয়।

“খেলার মাঠে শান্তি চায় বিশ্ব, কিন্তু যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব থাকা মানে খেলার অপমান”—বলে জানায় এক বিক্ষোভকারী।

ব্লুএনার্জি স্টেডিয়ামের বাইরে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে “Show Israel the red card” স্লোগান তোলে। ফিলিস্তিনি পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার হাতে নিয়ে তারা গান, নাট্য-প্রদর্শন ও শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

শেষদিকে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে পাথর ছুড়লে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিক্ষোভকারীদের। নিরাপত্তা রক্ষায় মোতায়েন ছিল এক হাজারের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য।

বিক্ষোভের মাঝে ম্যাচে একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে ইতালি ইসরায়েলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে।

মাতেও রেতেগুই জোড়া গোল করেন।জিয়ানলুকা মানচিনি করেন তৃতীয় গোলটি।

এই জয়ে ইতালি কমপক্ষে প্লে-অফ পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছে। তবে মাঠের এই জয় রাজপথে চলা ক্ষোভকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

ম্যাচের আগেই নরওয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতিতে জানায়,

“যুদ্ধাবস্থায় থাকা এবং শিশুদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো কোনো দলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।”

নরওয়ের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার।২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত, এবং২১ হাজার শিশু চিরতরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের পটভূমিতেই ফুটবল মাঠে ইসরায়েলি দলের অংশগ্রহণ ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যেমন রাশিয়ার খেলাধুলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তেমনি গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এখন “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

জাতিসংঘে স্বীকৃত মানবিক সংকটের মধ্যেও ইসরায়েলের অংশগ্রহণকে ক্রীড়া জগতের নিরপেক্ষতা না বরং রাজনীতির প্রভাব বলছেন অনেকে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন