পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন রূপ নিচ্ছে। বুধবার ভোররাতে দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, আফগান তালেবান যোদ্ধারা দক্ষিণ-পশ্চিম কান্দাহার ও উত্তর-পশ্চিম কুররম সীমান্তের দুটি সামরিক চৌকিতে ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্পিন বোলডাক অঞ্চলে পাল্টা অভিযানে অন্তত ২০ জন তালেবান নিহত হয়।
বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল। সেনাবাহিনীর এক সূত্র জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তালেবান যোদ্ধারা বেসামরিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলছে।
অন্যদিকে, আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে স্পিন বোলডাক এলাকায় অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, পাকিস্তান ‘অকারণে’ সীমান্তে হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, পাকিস্তানি হামলায় প্রায় ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তালেবান বাহিনী সীমান্ত চৌকি দখল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পাকিস্তান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগেও, গত শনিবারের সংঘর্ষে তালেবান দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর ৫৮ জন সদস্য নিহত হয়েছে। পাকিস্তান পাল্টা দাবি করে, অন্তত ২০০ জন তালেবান যোদ্ধা ওই সংঘর্ষে মারা গেছে।
এছাড়া, গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের কাবুল ও কুন্দুজে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই দেশ পরস্পরকে দায়ী করে আসছে। তালেবান দাবি করে, এটি ছিল পাকিস্তানি বিমান হামলা। পাকিস্তান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার না করলেও বলে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর উপস্থিতি ও তৎপরতা নিয়ে আফগানিস্তানকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে এমন সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

