২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ, এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এই ফলাফলকে “অস্বস্তিকর” উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আববার (সি আর আবরার)। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন,
“এইচএসসির ফলাফল বাস্তবভিত্তিক হলেও হতাশাজনক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ দায় এড়াতে পারে না। ফল বিশ্লেষণে আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ডাটা-ভিত্তিক পর্যালোচনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে “সফলতার মানদণ্ড” হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, এখন সময় এসেছে শিক্ষার গুণগত মানকে গুরুত্ব দেওয়ার।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার:
ঢাকা: ৬৪.৬২%, রাজশাহী: ৫৯.৪০%, কুমিল্লা: ৪৮.৮৬%, যশোর: ৫০.২০%, চট্টগ্রাম: ৫২.৫৭%, বরিশাল: ৬২.৫৭%, সিলেট: ৫১.৮৬%, দিনাজপুর: ৫৭.৪৯%, ময়মনসিংহ: ৫১.৫৪%, মাদরাসা বোর্ড: ৭৫.৬১%, কারিগরি বোর্ড: ৬২.৬৭%
গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:
মোট পরীক্ষার্থী: ১২,৩৫,৬৬১ জন, পাস করেছে: ৭,২৬,৯৬০ জন, ফেল করেছে: ৫,০৮,৭০১ জন, মোট জিপিএ-৫: ৬৯,০৯৭ জন (২০২৪ সালে ছিল ১,৪৫,৯১১ জন)
এ বছর ২০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল করেছে, যেখানে ৩৪৫টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে। এ সংখ্যা গতবারের তুলনায় হতাশাজনক।
পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে মেয়েরা। তবে সার্বিক ফলাফলে মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

