বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আবারও বাড়ল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিশনের নতুন মেয়াদ ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত।

এর আগে দুই দফায় এক মাস করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এবারের বাড়ানো মেয়াদটি তৃতীয় দফা সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশে রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থার রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাত সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

কমিশনটি গঠনের সময় তাদেরকে ৬ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা শেষ হয় গত ১৫ আগস্ট। তবে কমিশনের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তখন থেকেই ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে মেয়াদ।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে ছয়টি পৃথক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতৈক্যে পৌঁছানো ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।

কমিশন ইতিমধ্যে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন করেছে,৮৪ দফা জুলাই সনদ প্রস্তুত করেছে,সেই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ‘জুলাই সনদ’-এ রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে। তবে এখনো কিছু বড় দল সনদের ভাষা ও পটভূমি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরে রাজি হয়নি।

কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোকে অনেকেই স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সামলাতে সময়ক্ষেপণের কৌশল বলেও মনে করছেন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. আহসান হাবিব বলেন,

“সংলাপ ও ঐকমত্য অর্জনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলেও এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। তবে মেয়াদ বাড়িয়ে চলা একটি প্রতিষ্ঠান কার্যকর না হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন