মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বেতন-ভাতার সামান্য শতাংশ বৃদ্ধি নয়, চাকরি সম্পূর্ণ জাতীয়করণই একমাত্র লক্ষ্য — এমন দাবি জানিয়েছে মাদরাসা শিক্ষকদের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সেমিনারে সংগঠনটির সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন,
“আমরা বেতনের ২০ বা ৫০ শতাংশ চাই না, আমরা চাই শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরোপুরি জাতীয়করণ, যাতে তারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সব সুযোগ-সুবিধা পান।”
বাহাউদ্দীন বলেন, “যারা এখন রাস্তায় আন্দোলনের নামে স্ট্যান্ডবাজি করছেন, তারা মূল ইস্যুকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে, আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে দাবি আদায়ের পক্ষপাতী। সড়কে দাঙ্গা করে শিক্ষক সম্মান অর্জন হয় না।”
তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি তুলেছিল এবং সেদিন থেকেই তারা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে আসছে।
বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি বলেন, “বর্তমানে অর্থনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তাই আমরা চাই ভবিষ্যতের সরকার এই দাবি পূরণে এগিয়ে আসবে। তারা এমন সুযোগ-সুবিধা দেবেন, যা শিক্ষকেরা দাবি না করলেও পাওয়া যাবে।”
সাম্প্রতিক আন্দোলনে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের সমালোচনা করে বাহাউদ্দীন বলেন,
“এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিপর্যয় দেখা গেছে। সামনে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা রয়েছে। এখন ক্লাস বন্ধ করে আন্দোলন করলে ক্ষতি হবে শিক্ষার্থীদেরই। এটা শিক্ষকদের সম্মান ও দায়িত্বের সঙ্গে যায় না।”
জমিয়াতের মহাসচিব অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, “আমরা বহু বছর ধরেই জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছি এবং সরকারকে সময় দিচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক দাবি আদায় সম্ভব — এটাই আমাদের পথ। আমরা চাই, শিক্ষকরা মর্যাদা ও সুবিধার দিক থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের সমান হোন।”

