বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাতিল হবে যেসব সুবিধা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি মেয়াদের মধ্যেই গেজেট আকারে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এবং তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে জাতীয় পে-কমিশন, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা, পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এর বিপরীতে কিছু পুরোনো সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।

পে-কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে ‘সাকুল্য বেতন’ বা ‘পারিশ্রমিক’ ভিত্তিক কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। এই কাঠামোয় আলাদা করে কোনো ভাতা থাকবে না—সব ধরনের আর্থিক ও অনার্থিক সুবিধা একীভূত করা হবে একটিমাত্র বেতনে। এই পদ্ধতি বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে চালু আছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে যে সম্মানি বা অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণ করছেন, তা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে পে-কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে। এতে প্রতি বছর সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত ব্যয় রোধে এই সুবিধাগুলো বাতিলের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ডিসেম্বরে বাজেট সংশোধনের কাজ শুরু হবে এবং পে-কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই তা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় প্রাথমিকভাবে সর্বনিম্ন বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে পে-কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ এই প্রস্তাব নিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সমিতির নেতারা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন