গাজায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দি। তাদের মধ্যে অন্যতম আকরাম আবু বকর—যাকে তিনটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল দখলদার ইসরায়েল। ২৩ বছর বন্দিদশায় কাটানোর পর এবার তিনি headlines এ এলেন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তে: মুক্ত হয়েই আবার বিয়ে করলেন সেই নারীকে, যাকে এক সময় ভালোবেসে ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
২০০২ সালে আকরাম আবু বকরকে ইসরায়েলি বাহিনী গ্রেফতার করে। আদালত তাকে তিনটি যাবজ্জীবন সাজা দেয়। দীর্ঘ বন্দিজীবনের সূচনায়, তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দেন—তাকে মুক্ত ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য ছাড়তে চেয়েছিলেন। তবে তার স্ত্রী এই তালাক কখনোই মেনে নেননি। অপেক্ষায় ছিলেন, কখন আবার দেখা হবে।
সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে কায়রোতে। কারামুক্ত হয়ে আকরাম প্রথমেই পৌঁছান মিসরের রাজধানীতে। সেখানে তার প্রাক্তন স্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরেন—চোখে জল, মুখে হাসি। পরে স্বজনদের উপস্থিতিতে, ইসলামী রীতিতে তারা আবারও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
আকরামের ভাষায়, “আমি তাকে কাগজে মুক্তি দিয়েছিলাম, সে আমাকে হৃদয়ে বন্দি করে রেখেছিল। এই প্রেম, এই অপেক্ষা, এই বিশ্বাস—কোনো কারাগার তা ভাঙতে পারেনি।”
এই মানবিক গল্প এখন শুধু একটি দম্পতির নয়, পুরো ফিলিস্তিনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ, কারাবাস, নিপীড়নের মতো দুঃসহ সময়েও ভালোবাসা ও মানবতার জয় যে সম্ভব—আকরাম ও তার স্ত্রীর পুনর্মিলন তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
ফিলিস্তিনজুড়ে অনেকেই এই ঘটনাকে দেখছেন মুক্তির প্রতীক হিসেবে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আবেগঘন ছবি ও ভিডিও। অনেকেই বলছেন, “এই গল্প আমাদের শেখায়—স্বাধীনতা শুধু ভূখণ্ডের নয়, হৃদয়েরও হতে পারে।”

