বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তেলাপোকা মারতে গিয়ে পুরো অ্যাপার্টমেন্টে লেগে গেল আগুন, এক নারীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দক্ষিণ কোরিয়ার ওসান শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে তেলাপোকা মারতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এতে একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়েছেন আরও অন্তত আটজন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এক তরুণী পোকামাকড় নিধনের জন্য অ্যারোসল ধরনের দাহ্য স্প্রে ব্যবহার করে সঙ্গে লাইটার জ্বালিয়ে তেলাপোকা মারার চেষ্টা করেন। আগেও একই পদ্ধতিতে তিনি পোকা দমন করতেন বলে জানা গেছে। তবে সোমবারের ঘটনায় স্প্রে ও আগুনের সংমিশ্রণে মুহূর্তের মধ্যে দাহ্য গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সময় পাশের ফ্ল্যাটে বসবাসকারী এক চীনা দম্পতি ও তাদের নবজাতক শিশু ধোঁয়ার কারণে দরজা দিয়ে বের হতে না পেরে জানালা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাচ্চাকে নিচে নামাতে সহায়তা করেন। তবে জানালা বেয়ে নামার সময় ওই নারী ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার স্বামী ও নবজাতক সন্তান প্রাণে বেঁচে গেলেও ধোঁয়ার কারণে তারা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার জন্য দায়ী তরুণীর বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যা এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে নিচের তলায় ছিল দোকান, আর ওপরের তলায় ৩২টি আবাসিক ইউনিট। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার প্রয়োজন হয়। ভবনের বড় একটি অংশ পুড়ে গেছে এবং সাময়িকভাবে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা এ ধরনের বিপজ্জনক পদ্ধতিতে পোকা মারার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছেন, “ছোট ভুলে বড় বিপদ হতে পারে।”
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঘরোয়া পরিবেশে দাহ্য স্প্রে ও খোলা আগুন একত্রে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা উচিত।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন