কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিনকে অশালীন ভাষায় সম্বোধন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) একাংশের মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন। তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার পর রাতে ভেড়ামারায় লিংকনের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও জাতীয় যুব সংহতির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ তার বাড়ির সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আমলা বাজারে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন লিংকন। ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সরাসরি ফরিদা ইয়াসমিনের নাম উল্লেখ করে বলেন,
“মাদার গাছে বেশি ঘষবেন না। আপনি তারেক রহমানের কাছে সেলিমা রহমানের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন… আমি ভোট বিক্রি করেছি?”
এরপর তিনি ফরিদা ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে আরও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে।
ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ফরিদা ইয়াসমিনের সমর্থকরা ভেড়ামারা শহরে মোটরসাইকেল নিয়ে ঝাড়ু মিছিল করে। এ সময় তারা আহসান হাবিব লিংকনের বাড়ি ও অফিসের সামনে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধদের হাতে জাতীয় যুব সংহতির পৌর কার্যালয় ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমন বিশ্বাস। তার দাবি, “ফরিদা ইয়াসমিনের সমর্থকরা কার্যালয় ভাঙচুর করেছে, আমরা এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেব।”
ভেড়ামারা থানার ওসি আব্দুর রব তালুকদার বলেন,
“ঘটনার পর পরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।”
বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আহসান হাবিব লিংকন বলেন,
“ফরিদা আমার ছোট বোনের মতো। আমি উত্তেজনার বশে এমন কথা বলেছি, যা অনুচিত। আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। এটা ছিল ‘স্লিপ অব টাং’।”
বিএনপি নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন,
“তিনি যেভাবে আমাকে নিয়ে কথা বলেছেন, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের জানিয়েছি এবং মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন,
“লিংকন বিএনপির কেউ নন। তিনি আমাদের নেতানেত্রীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন না। কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”
আহসান হাবিব লিংকন ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে কুষ্টিয়া-২ আসনে নির্বাচন করেছিলেন এবং এবারও ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। অপরদিকে ফরিদা ইয়াসমিনও একই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। ফলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই বিতর্কের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

