দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্পষ্টতা ও নির্বাচনে আস্থা পুনরুদ্ধার করা—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) প্রেসিডেন্ট আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
তিনি বলেন, “সরকারকে দ্রুত জানাতে হবে কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটি যেন শান্তিপূর্ণভাবে হয়। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা এবং সরকার, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক পুনর্গঠন না হলে বিনিয়োগ সচল করা সম্ভব নয়।”
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জাগো নিউজ-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিসিআই সভাপতি জানান, নানা নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার পরও দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন,
“এখন কেউ বুঝতে পারছে না দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। কেউ বলছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, আবার কেউ বলছে নাও হতে পারে। এই অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।”
তিনি আরও বলেন, ব্যবসার খরচ ক্রমশ বাড়ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা দুর্বল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়—ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশ অস্থির হয়ে পড়েছে।
বিসিআই সভাপতি জানান, তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক বিনিয়োগে অর্থায়নে সমস্যায় পড়ছে।
“শুধু অর্থের অভাব নয়, বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন তাদের টাকা নিরাপদ থাকবে কি না। নীতিমালা বারবার পরিবর্তন হওয়ায় তারাও দ্বিধায় আছেন,” বলেন তিনি।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী মনে করেন, বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান কমবে এবং দারিদ্র্য বাড়বে। তাই স্বল্পমেয়াদে সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনা।
“সরকার, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠন করতে না পারলে কোনো প্রকল্পই সফল হবে না,” যোগ করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“মানুষের জীবন ও বিনিয়োগ—দুদিকেই এখন নিরাপত্তার অভাব স্পষ্ট। সরকার ও ব্যবসায়ীদের দূরত্ব বেড়েছে, আমলারা নিষ্ক্রিয়, আদালত থেকেও সময়মতো ছাড়পত্র মেলে না। ফলে কেউ জানে না কাকে ভরসা করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন সবাই এমন এক অবস্থায় আছেন যেন সাঁতার না জেনে গভীর জলে নেমেছেন—রেসকিউ করার কেউ থাকলেও নিশ্চিত ভরসা নেই।”

