নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে এক নাইটগার্ডকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ভয়াবহ এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক ইট ও ইটের টুকরা দিয়ে ওই নাইটগার্ডের হাত-পা থেঁতলে দিচ্ছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবু হানিফ। তিনি খানপুরের ইতু ভিলায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
যমুনা টিভির হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খানপুর জোড়া ট্যাংকের ভেতরে চারপাশে কয়েকজন যুবক হানিফকে ঘিরে রেখেছে।
কারও হাতে ইট, কারও হাতে ইটের টুকরা। একের পর এক আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন হানিফ। তিনি বারবার রেহাই চাইলেও আক্রমণকারীরা আঘাত চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে হানিফ নিথর হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কয়েকজন যুবক তাকে রিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
২০ অক্টোবর বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন রাতেই হানিফ মারা যান।
নিহতের বোন জয়নাব ওরফে রাবেয়া জানান,
“সোমবার দুপুরে ভাই ঘরে ঘুমাচ্ছিল। এসময় খানপুরের অভি ও আরও কয়েকজন এসে তাকে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দেয়। মাথা দেয়ালে ঠুকে দেয় এবং মারধর করতে করতে জোড়া ট্যাংকের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি, ভাইকে মৃত অবস্থায় ৩০০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”
নিহতের ছোট ভাই হযরত আলী বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ মুসফিকুর রহমান জিতু (২৯), মো. বাহার (৩২) এবং সাইদুল ইসলাম (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন,
“গ্রেফতার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, হানিফ বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার শিশু কন্যাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ যুবকরা তাকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে।”
ওসি আরও জানান,
“সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযান চলছে।”
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

