বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত সংশ্লিষ্ট চার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বাদ দিতে বিএনপির প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৩৬ দফা প্রস্তাবনা বা রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। সেখানে জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট চার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের আগামী নির্বাচনের কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দুটি ব্যাংক ও দুটি হাসপাতাল।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র জানায়, এ ধরনের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে দলটির অভিমত।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এই প্রস্তাবনাগুলো চূড়ান্ত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরবে।

৩৬ দফার প্রস্তাবে আরও রয়েছে, নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং প্রত্যেক উপজেলা/থানায়/নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি করে অভিযোগ নিরসন কেন্দ্র চালু করতে হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ প্রাপ্তির ১২ ঘণ্টার মধ্যে বা যত দ্রুত সম্ভব তা নিষ্পত্তি করে অভিযোগকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। জুলাই-২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছে। হঠাৎ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক পূর্বমুহূর্তে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তড়িঘড়ি করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্নের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই কার্যক্রমের ফলে সারা দেশে শিক্ষক/শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার একাডেমিক কার্যক্রম, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনের প্রাক-কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটি বৃহৎ কার্যক্রমে শিক্ষক/শিক্ষিকা, অভিভাবক তথা ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা স্থগিত করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা পোলিং পারসোন্যাল তথা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বমহলের কাছে চিহ্নিত এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ প্রদান করা যাবে না। এক্ষেত্রে তারা কয়েকটি ব্যাংক ও হাসপাতালের নাম উল্লেখ করেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানে এবং দূতাবাসগুলোয় চুক্তিভিত্তিক সব নিয়োগ বাতিল করতে হবে। নির্বাচনে সম্ভাব্য সব কারচুপির সুযোগ প্রতিরোধ করে নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত ফল নিশ্চিত করতে হবে। ভোটারদের প্রভাবিত করে—এরূপ ধর্মীয় প্রলোভন বা ধর্মীয় দণ্ড প্রদানের ভীতি প্রদর্শন রোধ করতে হবে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ আইনানুগ স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে। বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দানে ইচ্ছুক রেজিস্টার্ড প্রবাসী ভোটারদের তালিকা রাজনৈতিক দলকে যৌক্তিক সময়ের আগেই সরবরাহ করতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন