মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন পেলে তিনি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কাছে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ঝুঁকি সম্পর্কে “স্পষ্ট বার্তা” দেবেন।
গত বৃহস্পতিবার সিনেটের শুনানিতে নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটস বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চীন সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ঘাঁটি সংস্কার করেছে এবং বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ও দীর্ঘপাল্লার রাডার কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
রিকেটস বলেন, “এই পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে চীনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
সিনেটরদের প্রশ্নের জবাবে ক্রিস্টেনসেন বলেন,
“আমি বাংলাদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। চীনের সামরিক সম্পৃক্ততা ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের ঝুঁকি তুলে ধরব, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সুফলও ব্যাখ্যা করব।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
শুনানিতে সিনেটর রিকেটস জানান, মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র কমিটি সম্প্রতি ‘থিংক টোয়াইস অ্যাক্ট’ নামে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য চীনের কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশকে নিরুৎসাহিত করা। তিনি বলেন, এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের জন্য “গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহায়ক হবে”।
পেশাদার কূটনীতিক ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুনানিতে বলেন, “বাংলাদেশে আগের অভিজ্ঞতা আমাকে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন করেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন,
“আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
সিনেট অনুমোদন পেলে ক্রিস্টেনসেন পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০২৪ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব শেষ করেছেন।

