মহারাষ্ট্রের সাতারায় এক ২৮ বছরের তরুণী চিকিৎসকের আত্মহত্যা ঘটনায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতের নাম প্রশান্ত বঙ্কর, তিনি মৃত চিকিৎসকের পরিবারের একজন পরিচিত। পুলিশের অনুসারে, শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
তবে মৃত্যুনোটে আরেক অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর গোপাল বাদান এখনও পলাতক আছেন। পুলিশ তাকে ধরার জন্য তল্লাশি শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতারার ফলটনের একটি হোটেল থেকে তরুণী চিকিৎসকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ থেকে পাওয়া আত্মহত্যার চিঠিতে দু’জনের নাম উল্লেখ ছিল। অভিযোগ, সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অনৈতিক আচরণ ও শারীরিক হয়রানির চেষ্টা করেছেন। এছাড়া প্রশান্ত বঙ্করের কাছ থেকেও দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও শারীরিক হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তরুণী চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক ডাক্তার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে বিভিন্ন ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করতে বাধ্য করা হতো এবং বেশ কিছু অনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চার পাতার চিঠিতে ভুয়া রিপোর্টের জন্য চাপ ও হুমকির উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্র রাজনীতিতেও উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিরোধীরা মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের বৃদ্ধি নিয়ে সরকারকে নিশানা করেছেন। ক্ষমতাসীন দল জানিয়েছে, অভিযুক্তকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সাতারার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বৈশালী কাদুস্কার বলেন, “যদি সময়মতো সাহায্য পাওয়া যেত, সম্ভবত তার জীবন রক্ষা করা যেত। একজন নারী চিকিৎসক হিসেবে এই ঘটনা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।”

