বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘শাপলা’ প্রতীক না দিলে ইসি পুনর্গঠনের জন্য রাজপথে নামব: সালেহ উদ্দিন সিফাত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে জটিলতায় পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি করা ‘শাপলা’ প্রতীক নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমোদিত প্রতীক তালিকায় না থাকায় বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে, এনসিপি বলছে, যুক্তিহীনভাবে তাদের পছন্দের প্রতীক না দিলে তারা ইসি পুনর্গঠনের দাবিতে রাজপথে নামবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “বিধিমালায় ‘শাপলা’ প্রতীক নেই, তাই এটি এনসিপিকে দেওয়া সম্ভব নয়। কমিশন নিজ বিবেচনায় অন্য প্রতীক নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে।”

তবে ইসির এমন অবস্থানের পরও নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে এনসিপি। দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, “কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ‘শাপলা’ প্রতীক না দিলে ইসি পুনর্গঠনের জন্য আমরা রাজপথে নামব। রাজনৈতিক ও আইনগতভাবেও আমরা এই সিদ্ধান্তের মোকাবিলা করব।”

একই সুরে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা এখনো বিশ্বাস করি, ইসি ‘শাপলা’ প্রতীক ছাড়া গেজেট প্রকাশ করবে না। তবে না দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধনের আবেদনকালে এনসিপি শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোন — এই তিনটি প্রতীক প্রস্তাব করেছিল। পরে তারা কেবল শাপলার দিকেই স্থির হয়। কিন্তু নির্বাচনী বিধিমালায় ‘শাপলা’ তালিকাভুক্ত না থাকায় ইসি বারবার প্রস্তাবটি নাকচ করছে।

সাম্প্রতিক এক চিঠিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যুক্তি তুলে ধরেন, জাতীয় প্রতীকের চারটি উপাদানের একটি হওয়ায় ‘শাপলা’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা আইনসম্মত। তিনি উদাহরণ দেন, জাতীয় ফল ‘কাঁঠাল’ ইতোমধ্যে একটি দলের প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ আছে, তাই ‘শাপলা’ ব্যবহারে বাধা থাকার কথা নয়।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “শাপলা না দিলে ইসিকে তার আইনি ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় তা হবে স্বৈরাচারী আচরণ। বর্তমান ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”

এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে এক সভায় বলেন, “আমরা শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেব। এটি আমাদের প্রাপ্য অধিকার, প্রয়োজনে রাজপথে নেমে তা আদায় করব।”

অন্যদিকে ইসি বলছে, বিধিমালা অনুসারে প্রতীক পরিবর্তন বা সংযোজনের কোনো উদ্যোগ এখনই নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। ফলে এনসিপি ও ইসির মধ্যে প্রতীক-সংক্রান্ত অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন