মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনের সময় চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি আরও উন্নত সংস্করণে স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন ‘৩.০ সংস্করণ’ চুক্তিটি শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াবে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে চীনের কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উত্তর হিসেবে দেখা যেতে পারে।
চীনের রাষ্ট্র পরিষদের মতে, চুক্তিটি ২০১০ সালে প্রবর্তিত চীন-আসিয়ান মূল চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। চীন-আসিয়ান বাণিজ্য চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৭৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
লি চিয়াং বলেন, “আমাদের সম্পর্কের গভীরতর সহযোগিতা বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে স্থায়ী উন্নয়ন ঘটাবে। আসিয়ান দেশগুলোর জনগণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ বিনিময় হবে।”
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ঝিউউ চেন বলেন, “চীন ও আসিয়ানের জন্য এটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়লেও আসিয়ান চীনের বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।”
লি চিয়াং একতরফা নীতি ও সংরক্ষণবাদের সমালোচনা করে বলেন, “বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ও উচ্চ শুল্ক বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা এক স্থিতিশীল ও উন্মুক্ত বাণিজ্য পরিবেশ চাই।”

