ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশে নারী প্রার্থী দিচ্ছে বিএনপি। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ১২ আসনে ১০ নারী নেত্রীর নাম রয়েছে।
তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর জন্য তিনটি আসন রাখা হয়েছে— দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১। আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসনে লড়তে পারেন।
খালেদা জিয়ার বাইরে বিএনপি এবার নারী নেতৃত্বকে সীমিত পরিসরে হলেও অগ্রাধিকার দিয়েছে। সবশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকে ১৪ নারী প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
ঘোষিত তালিকায় থাকা ৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন সানজিদা ইসলাম তুলি (ঢাকা-১৪): গুম হওয়া পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’–এর সমন্বয়ক। তাঁর ভাই সাজেদুল ইসলাম নয়নকে ২০১৩ সালে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়।আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ-৩): বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি প্রয়াত হারুনার রশীদ খান মুন্নুর কন্যা।তাহসিনা রুশদীর লুনা (সিলেট-২): গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সাবেক এমপি।শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২): বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রয়াত নেতা কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা।চৌধুরী নায়াব ইউসুফ (ফরিদপুর-৩): সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা, মহিলা দলের নেতা।ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (ঝালকাঠি-২): সাবেক সাংসদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী ও এক সময়ের সংসদ সদস্য।ফারজানা শারমিন পুতুল (নাটোর-১): বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য ও হাইকোর্টের আইনজীবী।সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা (শেরপুর-১): একাদশ নির্বাচনের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কন্যা।সাবিরা সুলতানা মুন্নী (যশোর-২): ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রয়াত নেতা নাজমুল ইসলামের স্ত্রী।
‘জুলাই সনদ’-এর সুপারিশ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে মোট আসনের কমপক্ষে ৫ শতাংশে নারী প্রার্থী দিতে হবে। বিএনপি ও আরও ২৬টি দল এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।
তবে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় নারী নেতৃত্ব বাড়াতে এবং আগামী নির্বাচনে আরও নারীদের সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“বিএনপি নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করছে। এ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়ানো দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।”

