আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরির পথে হাঁটছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি জানিয়েছে, দেশের সার্বিক সংস্কার ও নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দলটি এমন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে আগ্রহী যারা “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
“সংস্কার বাস্তবায়ন আমাদের মূল লক্ষ্য। যারা এই লক্ষ্যে কাজ করতে চায়, আমরা তাদের সঙ্গেই একসাথে কাজ করবো।”
বিএনপির সঙ্গে চলমান আলোচনা সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু আসনে প্রার্থিতা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও নীতিগত বিষয়ে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর বলেন,
“আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে পরিবর্তনের রাজনীতি চাই। বিএনপি যদি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকে, তাহলে জোট হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুরুতে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের সম্পর্ক অনেকটা শীতল। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টের পর সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি সম্প্রতি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি আসনে প্রার্থী প্রস্তুত করেছে এনসিপি—যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
তবে এনসিপি জানিয়েছে, সংলাপ সফল হলে আসন সমন্বয় করে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৭ নভেম্বর এনসিপির সাধারণ সভায় জোট গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় উঠবে। সফল হলে আগামী সপ্তাহেই যৌথ ঘোষণা আসতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন নিবন্ধন পাওয়া এনসিপি সংস্কারমুখী বক্তব্যের মাধ্যমে মধ্যপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাইছে। বিএনপির সঙ্গে জোট হলে তা বিরোধী রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

