সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ হিসেবে ১০ হাজার ২১৯টি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
এই নিয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে নিয়োগ শুরু হবে। পরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে সদ্য প্রণীত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী। নতুন বিধিমালায় যোগ্যতা, বয়সসীমা ও অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে।
শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা এবার অগ্রাধিকার পাবেন।
প্রার্থীর বয়স ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে পারবে।
প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা স্থগিত ছিল। এবার সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে নতুনভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষায় মানোন্নয়ন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্য আসবে।
তবে তারা চান, “নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।”

