জুলাই সনদ ও আসন্ন গণভোটকে ঘিরে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন বিষয়টি নিয়ে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও জৈনপুরী পীর ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।
সম্প্রতি এক ধর্মীয় আলোচনায় তিনি বলেন, চলমান গণভোট দেশের জন্য অশুভ সংকেত বহন করছে। এটি মূলত নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির একটি পরিকল্পনা।
তিনি মন্তব্য করেন, “এই গণভোটের মাধ্যমে দেশকে অরাজকতা ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে সামরিক শাসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
ড. আব্বাসী বলেন, “যারা দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে, তারাই আবার জাতির ত্রাতা সেজে বিষ ঢালার চেষ্টা করবে। এ ষড়যন্ত্রের পেছনে আন্তর্জাতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজছে।”
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি স্মরণ করান, ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ সংবিধানের মৌলিক নীতিতে যুক্ত করা হয়েছিল। “আজ সেই নীতি বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা মুসলমানদের ঈমানের ওপর আঘাত,” বলেন তিনি।
ড. আব্বাসী সতর্ক করেন, যদি গণভোটের মাধ্যমে এমন কোনো সংবিধান অনুমোদিত হয় যেখানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বাদ দেওয়া হয়, তবে মুসলমানদের সে প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়াই উচিত।
তিনি আরও বলেন, “সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংসদের হাতে রয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে যা অনুমোদিত হবে, ভবিষ্যতে সেটি পরিবর্তনও করা সম্ভব। তাই জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”
ইতিহাসের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, “প্রতিবার গণভোট বা সামরিক হস্তক্ষেপের পর দেশ রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে—জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড থেকে এরশাদের পতন পর্যন্ত তার সাক্ষ্য বহন করে।”
শেষে তিনি আহ্বান জানান, দেশের মানুষ যেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়। “এ সময় আমাদের ঈমান, দেশ ও ভবিষ্যতের পরীক্ষা। রাজনীতিবিদদের আল্লাহর ভয় করা উচিত,” বলেন ড. আব্বাসী।

