বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ জামায়াতেও!

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূল পর্যায়ে একাধিক আসনে অসন্তোষ ও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চারটি আসনে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এবং আরও চারটি আসনে অপ্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হিসেবে পরিচিত জামায়াতের ভেতরে এই মতবিরোধকে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, পাবনা-৫ (সদর), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) ও নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। এছাড়া সিলেট-৫, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-১৫ ও গাজীপুর-৬ আসনেও মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে, অন্যদিকে তার সমর্থকরা নতুন প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। কুমিল্লা-৭ আসনে গণমিছিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

পাবনা-৫ আসনে স্থানীয় নেতারা সাবেক এমপি আব্দুর রহিমকে প্রার্থী করার দাবি জানান, যদিও কেন্দ্র অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে। একইভাবে, গাজীপুর-৬ আসনে বিদেশফেরত প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের মনোনয়নেও তৃণমূলের অসন্তোষ দেখা দেয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রবীণ বনাম তরুণ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এখন স্পষ্ট। কিছু আসনে তরুণ, উচ্চশিক্ষিত ও নতুন মুখকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। অনেক প্রবীণ নেতা মনে করছেন, তাদের ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।

এছাড়া নির্বাচন কৌশল নিয়েও জামায়াতে রয়েছে ভিন্নমত। একাংশ চায় দলটি এককভাবে নির্বাচন করুক, অন্য অংশ বৃহত্তর ইসলামী জোটে যোগ দেওয়ার পক্ষে। এই কৌশলগত মতবিরোধও প্রার্থী চূড়ান্তকরণে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের শীর্ষ নেতারা অবশ্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের খবরকে “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” হিসেবে দেখছেন। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম কালবেলা-কে বলেন,

“তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। যেসব এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলো সামান্য ভুল বোঝাবুঝি। এখন তিনশ আসনেই আমাদের প্রার্থী আছে, সবকিছু নির্বাচনের আগেই ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ঐক্য ও শৃঙ্খলার মধ্যে এই প্রকাশ্য বিভাজন দলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। নির্বাচনের আগে এই সংকট কতটা নিরসন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন